গত মাসে কর্তৃপক্ষের প্রাণঘাতী দমনপীড়নের পর আবার ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। ওই দমনপীড়নের পর এটাই প্রথম এমন বড় পরিসরে সমাবেশ দেখা গেল। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই বিক্ষোভ নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে ইরানকে বাগে আনতে যুক্তরাষ্ট্র চাপের পর চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে। অন্যদিকে ইরানকে শর্তে রাজি হতে চারপাশ সামরিক সজ্জায় বেষ্টন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে দেয়া ভয়াবহ চাপে সরকার যখন নাস্তানাবুদ অবস্থায়, তখন দেশের ভিতর থেকে তার ওপর চাপ বাড়াতে শিক্ষার্থীরা আবার রাজপথকে বেছে নিয়েছে। আগেই প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন তিনি ইরানে শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তন চান। এর সুযোগ নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শাহ পেহলভি। নতুন করে এসব বিক্ষোভের পিছনে পশ্চিমা হাত আছে বলে অনেকেই মনে করছেন।
এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসি বলছে, শনিবার রাজধানী তেহরানের শেরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভকারীদের মিছিলের ভিডিও যাচাই করেছে। পরে সেখানে তাদের সঙ্গে সরকার-সমর্থকদের ধস্তাধস্তির দৃশ্যও দেখা যায়। তেহরানের আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালিত করা হয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও একটি সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীরা জানুয়ারিতে গণবিক্ষোভে নিহত হাজারো মানুষের স্মরণে এই কর্মসূচি পালন করছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আশপাশে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি সীমিত পরিসরে সামরিক হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা সন্দেহ করছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগোচ্ছে। তবে ইরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।
মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয় এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে অগ্রগতির খবর থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প পরে বলেন, সম্ভবত আগামী ১০ দিনের মধ্যেই বিশ্ব জানতে পারবে ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে কি না, নাকি যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেবে। মার্কিন নেতা অতীতেও বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দিয়েছেন। এক পর্যায়ে তিনি সহায়তা আসছে বলে তাদের উৎসাহিত করেছেন বলেও মনে হয়।
বিবিসির যাচাইকৃত ফুটেজে দেখা যায়, শনিবার নতুন সেমিস্টারের শুরুতে শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি ক্যাম্পাসে শত শত বিক্ষোভকারীর অনেকের হাতে ইরানের জাতীয় পতাকা। তারা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করছেন। জনতার ভিড় থেকে ‘স্বৈরশাসক নিপাত যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়। যা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে ইঙ্গিত করে। এছাড়াও শোনা যায় বিভিন্ন সরকারবিরোধী স্লোগান।
ভিডিওতে কাছাকাছি স্থানে সরকারপন্থী একটি সমাবেশের সমর্থকদেরও দেখা যায়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। রাজধানীর শহীদ বেহেস্তি ইউনিভার্সিটিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান ধর্মঘটের ছবিও প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়া তেহরানের আমির কবির ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে সরকারবিরোধী স্লোগান দেয়ার ভিডিওও বিবিসি যাচাই করেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশাদে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা ‘স্বাধীনতা, স্বাধীনতা’ এবং ‘শিক্ষার্থীরা, নিজেদের অধিকারের জন্য আওয়াজ তোলো’ বলে স্লোগান দেন। দিনের পরে অন্যান্য স্থানেও বড় আকারের বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায় এবং রোববার আরও সমাবেশের আহ্বান করা হয়েছে। কোনো বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।
খুলনা গেজেট/এনএম

